বাংলা কবিতা পড়ুন • শুনুন • সহজ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা • সুন্দর অভিজ্ঞতা
ফেলে আসা দিনগুলি
মোঃ মোক্তারুল আলম • nostalgia • 1
• 0
এক সময় লবণ ছিল শুধু
দরজায় দরজায় ভরসার শব্দ,
চিনি মানে মিষ্টি নয়,
চিনি মানে সম্পর্কের অঘোষিত চুক্তি।
ধনী–গরীবের কোনো ভেদাভেদ ছিল না,
ছিল শুধু
খালাম্মা, একটু ডাল আছে?
আর সেই ডাল নিয়ে আসার পথে
গল্প, হাসি, বিকেলের রোদ্দুর।
পাতলা ডাল না হলে
বাটি হাতে পাড়া বেড়ানো।
আজ যাকে বলে দারিদ্র্য,
সেদিন ছিল স্বাভাবিক রান্না বিনিময়।
ডিম, চিনি, লবণ, মরিচ, মশলা
সবই ছিল ভাগাভাগি করা জীবনের সম্পদ।
রমজানের ঈদে সেমাই মুড়ি আর
শবে বরাতের ট্রে ঘুরে বেড়াতো
বাড়ি বাড়ি।
হালুয়ার স্বাদে, চালের আটার রুটিতে পাড়ার মানচিত্র আঁকা হতো।
কার বাড়িরটা একটু বেশি মিষ্টি
সেটাই ছিল আমাদের প্রতিযোগিতা।
আলিফ লায়লা, সিন্দবাদ, ম্যাকগাইভার
একলা দেখার কোনো ইতিহাস নেই।
সাত-আট জনের চোখে
একই স্বপ্ন একসাথে জ্বলতো।
পাড়ায় বিয়ে মানে
পুরো পাড়ার উৎসব।
অন্যের বিয়েতে
নতুন জামা কেনা
আজ ভাবলে রূপকথা লাগে।
সব নাম জানা ছিল,
সব মুখ চেনা ছিল।
এখন
পঁচিশ বছর একই বাড়িতে থেকেও
আমি শুধু অমুক সাহেব।
পাশের বাড়ির মেয়েটা
কবে বড় হলো, কবে বিয়ে হলো, কবে মা হলো
আমার অজানাই রয়ে গেল।
জুম্মা শেষে
একলা ঘরে ফেরা
মনে হয়
আমি কি তবে অন্য গ্রহে চলে এসেছি?
এ কি সেই সভ্যতা,
যেখানে মানুষ আছে,
কিন্তু প্রতিবেশী নেই?
ধার দেওয়া দিনগুলো
হয়তো গৃহস্থালির তালিকায় ছিল না,
ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের
শর্তহীন বন্ধনের সভ্যতা
যা আজ নীরবে
ইতিহাস হয়ে গেছে।