বাংলা কবিতা পড়ুন • শুনুন • সহজ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা • সুন্দর অভিজ্ঞতা
মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ • কাব্য • 1
• 0
ছাতের সিলিং থেকে
ঝুলে আছে উলঙ্গ
লাইটের বাল্ব
চারপাশে ধুলো মাখা
মাকড়শা জাল বিছিয়েছে।
হাওয়ায় ক্ষতের গন্ধ
পুঁজ-রক্ত এবং ওষুধ
ফেলে দেয়া ব্যান্ডেজ
ছড়ানো-ছিটানো কোনও
পাখিদের ছিন্ন পালক-
অথবা পূজার জবা
পাপড়িতে বিষের কলুষ।
মেঝের মাটিতে শোয়া
একজন রুগ্ন প্রবীণ
ইশারায় কাছে ডাকে
কানে কানে বলে,
অন্ধকারের স্বাদ
জীবনে পেয়েছে যে
তার আর বেঁচে থাকা কেন?
যখন বেরিয়ে এলাম
তখন বিকাল
গোধূলির কাছাকাছি
পরিধানে হিজলবাকল।
সারাপথে কালো ধোঁয়া,
এবং পথের পাশে
স্তূপ করে রাখা
বর্জ্য আবর্জনা
কিম্বা মাছির মতো ময়লা মানুষ।
সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে
জানালার পাশে
বয়সী চেয়ারে বসি-
যদিও বাতের রোগী
আমার পুরানো সখা
স্মৃতি বিজড়িত।
বাইরে তাকিয়ে দেখি
আকাশের দড়িতে ঝোলানো
অজস্র শালিকের লাশ
ক্রমেই কাঠবিড়ালি
ভীষণ ধূসর-
আশ্চর্য অনুভব
তুষারের উষ্ণতা নিয়ে
আমাকে জড়ায়ে ধরে
রাত্রির লাবণ্যে বেড়ে ওঠা
কোনও এক কৃষ্ণ রমণী
আভরণহীনা
এবং নকল চাঁদ
লজ্জায় মুখ ঢেকে রাখে।
রোদের কাচের চুড়ি
ভেঙে কাচের চুড়ি
ভেঙে যায় শুধু ভেঙে যায়।
আমি তো প্রান্তর ছেড়ে
চলে যেতে চাই
দূর্বাঘাসের ঘ্রাণ
খোলা পা মেখে
কোনও এক প্রাচীন-নবীন
অরণ্যের গহন গভীরে
যেখানে স্ফটিক কৃষ্ণ
নির্ঝর অনিবার ঝরে।
যেমন সে ঝরেছিল
আমার মাতৃগর্ভে
বহিষ্কারের আর
পতনের কান্নার আগে।
এবং নকল শঙ্কা
বালকের ফুসফুসে
ফুলে ওঠা বেলুনের মতো
কোথায় হারিয়ে যায়
অথবা আতঙ্ক কি
পতনের যবনিকা?
পৃথিবীর জীবনের
হত্যার যন্ত্রণা ধমনিতে নিয়ে
আমি শুধু চলে যেতে চাই
পরিশুদ্ধ আদিবাসে
যেখানে অন্ধকারে
বুলবুলি পাখা ঝাপটায়
ঝোপের আড়ালে ফোটে
মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ।