বাংলা কবিতা পড়ুন • শুনুন • সহজ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা • সুন্দর অভিজ্ঞতা
খৈরী, আমার খৈরী :একটি এলেজি
শক্তি চট্টোপাধ্যায় • কাব্যগ্রন্থ • 1
• 0
হলুদ রোদ্দুরে-মোড়া দেহ জুড়ে কালসিটে দাগ
ছায়ার চাবুক খেয়ে এই রূপ ভারি আদরের
হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ, জলে ও জঙ্গলে ভয়ংকরী.....
মানুষের ঘরে-দোরে অনায়াসে ঘোরো ফেরো কন্যার মতন
মানুষী মায়ের গায়ে পা তুলে শুয়েছো তুমি
ভরসন্ধেবেলা
এ সবই দেখছি আমি, তক্তপোশে শুয়ে
আমার মেয়ের হাত থেকে খেতে কাঁচা রং দুধে মেখে দিলে
খেয়ে ফেলি-কাৎ মেরে শুয়ে থাকতে আকাশের নিচে
আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ, খয়া ও খর্বুটে চাঁদ, জঙ্গলে ডেকেছে....
মানুষের ঘর ছেড়ে যাবে না ?
জঙ্গলই তোমার ঘর, জঙ্গলে যাবে না ?
যাবো, জঙ্গলেও যাবো, পারে, পরবাসে
একদিন।
আজ নয়, আজ বড়ো ভিক্ষা-পরবশ এই দেহ এই মন
জঙ্গল করেছে বিসর্জন
দুধের শিশুকে কেন মা বাঘ নিয়েছে বিসর্জন একদিন।
অভিমান আমায় করেছে পর–বশ
কন্যার মতন স্নেহে পরিযত্নে থাকি
মানুষের ভালোবাসা, ঘৃণা নয়, কী জব্দ করেছে
ছেড়ে রেখে বেঁধেছে শৃঙ্খলে!
মানুষই এভাবে বাঁধে, ভালোবেসে, ঘৃণা করে নয় ।
নিষ্ঠুর হায়নার সঙ্গে অন্ধ আমি তোমাকেই খুঁজি
বাংলোর বাগানে নেই, ঝরা পাতা আছে
সদরে-অন্দরে নেই, শূন্যতার কাছে
আত্মসমর্পণ করে বসে আছে দুজন পাথর
মানুষ পাথর হয় বাঘিনীর শোকে
কোথাও শুনেছো ?
খৈরী, আমার খৈরী, স্বর্গের বাগানে
প্রকৃত দেবতা নয়, মানুষকেই খোঁজে!